কেন্দুয়ায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে পাষণ্ড পিতা গ্ৰেফতার 

প্রকাশিত: ২:০৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় ১৭ বছরের নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে পাষণ্ড পিতা সন্তোস মিয়াকে (৪৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  বুধবার ভোর রাতে উপজেলার নিজ বাড়ী থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক সন্তোষ মিয়া কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের কুন্ডলী গ্রামের বাসিন্দা।

আজ বুধবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজি শাহনেওয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে আসামীর মো: নাজমুল হক বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ভিকটিম …. (১৭) বাবা-মাসহ আরো তিন ভাই রয়েছে। তারা গরিব পরিবার হওয়ায় ঢাকা গাজীপুরের বোর্ডবাজার-২৭ এলাকায় বসবাস করত। তাদের দুই ভাইয়ের একজন রাজমিস্ত্রী, একজন সিএনজি মিস্ত্রী এবং অন্যজন সিএনজি চালকের কাজ করত। কিন্তু তাদের পিতা আসামী সন্তোষ বাসায় সাংসারিক দেখাশোনা করত।

সেই সুযোগে তার মেয়েকে বাসায় একা পেয়ে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিয়ে আসত। এতে রাজি না হওয়ায় তার মাকে তালাক দিবে এবং ভিকটিমের ভাইদের খুন করবে বলে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসত। এভাবেই তাকে ২ থেকে ৩ বছর তাকে বাসায় একা পেয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছে।

ধর্ষক তার ঔরসজাত বাবা হওয়ায় মান-সম্মানের ভয়ে কাউকে না জানিয়ে এভাবেই যৌন নির্যাতন সহ্য করে আসছিল। এ অবস্থায় গত কুরবানীর ঈদের কয়েকদিন পরে গাজীপুর হইতে কেন্দুয়ায় গ্রামের বাড়ীতে চলে আসে। এ অবস্থায় রবিবার (১১ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ভিকটিমকে তার পিতা দোকানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ীর পার্শ্ববর্তী ধান ক্ষেতের পাশে নিয়ে খুন জখমের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় ভিকটিম অতিষ্ট হয়ে অন্যায় কাজ সহ্য করতে না পেরে তার পরিবারের লোকজনকে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।

পরে মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মো: নাজমুল হক বাদী হয়ে তার পিতার বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। মামলার পর গত ভোর রাতে (সেহেরীর সময়) সন্তোস মিয়াকে নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। আজ তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।