নেত্রকোণার ‘ভাইসাব’ হয়ে উঠছেন সমাজের দর্পন

প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১

স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলার সৎ সাহস নিয়ে খুব কম মানুষ ই পৃথিবীতে জন্মান। নেত্রকোনার ভাইসাব হয়তো তাঁদের মতোই একজন। যিনি তাঁর সুচিন্তিত অতি সুক্ষ্ম কৌশলে তুলে ধরছেন সমাজের নানান অসঙ্গতি। কেন্দুয়া – নেত্রকোনা সড়কের বেহাল চিত্রকে  অতি রসাত্মক ভঙ্গিমায় উপস্থাপনের মাধ্যমে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে ভাইসাব। যৌতুক, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, পরিবহন সিন্ডিকেট,রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা সামাজিক অবক্ষয় থেকে শুরু করে কোনো কিছুই দৃষ্টি এড়ায়নি  ভাইসাবের তীক্ষ্ণ নজর থেকে।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন ইস্যু নিয়ে কথা বলে ইতোমধ্যেই মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন ভাইসাব।সম্প্রতি যৌতুকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে, যেকোনো যৌতুকবিহীন বিয়েতে সশরীরে উপস্থিত থাকার  ঘোষনা দিয়েও ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন ভাইসাব। আচমকাই উপহার হাতে বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হয়ে চমকে দিচ্ছে সবাইকে।

 

পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ  ঘটনাই ভাইসাবের কাছে গুরুত্বহীন। আবার কিছু গুরুত্বহীন জিনিসও  কখনো কখনো ভাইসাবকে গভীর চিন্তায় ফেলে দেয়।তখন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তাঁর ভেতরের পাগলামি।ভাইসাব কখনো হাঁসে, কখনো মন খারাপ করে, হতাশ হয়,আবার কখনোবা গর্জন করে ওঠে তার নিজস্ব ভঙ্গিমায়।ভাইসাব ক্যামেরা হাতে বের হয়ে যান রাস্তায়, কথা বলেন মানুষের সাথে, বের করে আনেন আনন্দের রসদ।

 

ভাইসাবের  আসল নাম সামিউল হক ভূঁইয়া।যার জন্ম নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার দেওপাড়া গ্রামে। পড়াশোনা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে। পড়াশোনার পাশাপাশি লোকজ সংস্কৃতির চর্চা এবং গবেষণায় সময় কাটে তাঁর। পদাতিক নাট্যসংসদ সহ ঢাকার বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য থিয়েটারে নিয়মিত অভিনয় করেন তিনি।

 

ভাইসাব নামকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন “ভাইসাব হলো একটি রসের ডাক, ভাইসাবের কাছে কোনো সংকোচ, লজ্জা বা কৃত্রিমতা নেই। ভাইসাব সব বয়সের এবং সব পেশার মানুষেরই ভাইসাব”।

 

কচ্ছপের গতি নিয়ে ভাইসাব এগিয়ে যাচ্ছে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে, হয়ে উঠছে জাতির বিবেক।

 

তার রসাত্মক প্রতিবাদী ভিডিও গুলো উপভোগ করতে পারেন তার সাইটে

https://youtube.com/channel/UC4uzuwTyKQKUUAs6S-H-hTwhttps://www.facebook.com/BR0420/