উপজেলা সরকারি কর্মকর্তাদের বিবেকহীন কর্মকাণ্ড দেখে মফস্বল সাংবাদিকরা হতবাক

খলিল মাহমুদ খলিল মাহমুদ

নাটোর জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০২১

উপজেলা পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বিবেকহীন কর্মকাণ্ড দেখে মফস্বলের সাংবাদিকরা হতবাক। কারণ সাংবাদিকরা জানে যে দেশের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র ছাত্রীরা সর্বোচ্চ শিক্ষা অর্জন করে বি,সি,এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তবেই সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মনোনীত হন। এবং সরকার বাহাদুর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন উপজেলায় নিয়োগ দেন।

গ্রাম আঞ্চলের সাধারণ মানুষগুলো সমস্যায় পড়লে অফিসে আসে অফিসারদের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য কিন্তু নানা অজুহাতে তাদেরকে ঘোরানো হয়, অথবা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কাজটা করে দেয়, যেটা উচিত নয়। যারা গরিব টাকা দিতে পারেনা তারা নিরুপায় হয়ে মফস্বল সাংবাদিকদের কাছে দুঃখের কথাগুলো শেয়ার করে। হতদরিদ্র মানুষের মুখে এসব শুনে আশ্চর্য হতে হয়। অবহেলা অবজ্ঞা দেখে মনে হয় উপজেলা গুলো বাংলাদেশের অংশ নয়, বিচ্ছিন্ন একটা অঞ্চল। ইচ্ছে মতো সরকারি তহবিলের অর্থ কাল্পনিক হিসাব দেখিয়ে আত্মসাত করেই তার পরেও গ্রামের মানুষের কাছ থেকে নানা কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেয়।

একদিকে যেমন নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ অন্য দিকে কর্মকর্তারা করছে অবৈধ ভাবে ব্যাংক ব্যালেন্স সহ বাড়ি গাড়ি। পরিস্থিতি এমন যে তারা অবৈধ অর্থ উপার্জনে করলেও কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। উপজেলায় সকল সরকারি অফিসেই চলছে কমবেশি অনিয়ম ও দুর্নীতি। যদিও এ বিষয়টি সচেতন মহলের জানা তথাপি পুনরায় উল্লেখ করা হলো। এলাকাবাসীর আশা ছিল অফিসারা গ্রামের মানুষদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে এবং দেশপ্রেম শিখাবে। কিন্তু মূলত তার বিপরীত ঘটনা ঘটেছে, যেটা অদূর ভবিষ্যতে দেশকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে। যেহেতু দেশের স্বার্থ রক্ষা করা দেশের যে কোন নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য, সেহেতু সত্য কথাগুলো কারোনা কারো পত্রিকায় অথবা মিডিয়ায় মাধ্যমে প্রকাশ করতেই হবে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে হলেও দেশের স্বার্থ রক্ষা করা জরুরি। আশ্চর্যের বিষয় হলো উপজেলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আদর্শের কথা মুখে বললেও কাজকর্ম তার বিপরীত।

এখানে সুনির্দিষ্ট কোনো অফিস বা অফিসারের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে না, শুধু তাদের বর্তমান কর্মকাণ্ডে কথাগুলো আলোচনা করা হচ্ছে । মফস্বলের সাংবাদিকরা যখন অফিসে গিয়ে কোন কিছু জানতে চায় তখন এড়িয়ে চলে এবং বিব্রত বোধ করেন। আলোচ্য বিষয় হচ্ছে কিছু কিছু অফিসে দেখা যায় কর্মকর্তারা অর্থের বিনিময়ে অপরাধীদের সাথে আঁতাত করছে। এতে করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এসব অনৈতিক কার্যকলাপ দেখে সাংবাদিকদের কলম থমকে যায়। যেহেতু বর্তমানে দেশে লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়েরা বেকারত্ব জীবন যাপন করছে সেহেতু দেশে ভালো চাকরি পেয়ে কি করে একজন কর্মকর্তা দায়িত্বে প্রতি অবহেলা করে সেটা কারো বোধগম্য নয়।

লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরকার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়েছে, যাতে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখে। কিন্তু পক্ষান্তরে যা হচ্ছে তা সবই উল্টো, সচেতন মানুষ হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। অবশ্য এ বিষয়ে কমবেশি সবার জানা তবুও বিবেকের তাড়নায় মফস্বলের সাংবাদিকরা কলম ধরতে বাধ্য হচ্ছে । এভাবে আর কতদিন সরকারি কর্মকর্তাদের কাণ্ডজ্ঞানহীন কার্যকলাপ দেখতে হবে? এসবের কি কোনদিন বিহিত হবে না?

সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন পেয়েও যদি অবৈধ অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত থাকে, সে ক্ষেত্রে মফস্বল সাংবাদিকরা প্রতিবাদ স্বরূপ একটু লেখালেখি করা ছাড়া আর কি বা করার থাকতে পারে। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ তাই সেদিক বিবেচনা করেই মফস্বলের সাংবাদিকরা কখনও কোন অপকর্মে নিজেকে জড়ানোর চেষ্টা করেনা। উল্লিখিত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত উর্ধেতন কর্মকর্তাদের যথার্থ পদক্ষেপ বাঞ্ছনীয়।