সমাজ এক চলমান ধারা( পর্ব-৫)

প্রকাশিত: ১১:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২১
সমাজ এক চলমান ধারা( পর্ব-৫)
————————————————————————–
ননীগোপাল সরকার,
শিকারি দলটি সূর্য প্রখর হতে না হতেই জঙ্গল অভিমুখে চলে গেলো। কেউবা চলে গেলো নদীতটে। পশু এবং মাছ দু’টোই তাদের লক্ষবস্তু। কাঁচাই খেতে হয়। আকাশে সূর্য দেখলেও আগুনের উৎস তারা জানে না, জানে না আগুন জ্বালাতে। আর তখন গ্রীষ্মকাল। হঠাৎ চোখে পড়লো জঙ্গলে আগুন, লেলিহান জ্বলছে। আগ্নেয়গিরী তাদেরকে তাড়িয়েছে। কিন্তু জঙ্গলের এই আগুন তাদেরকে বিষ্মিত করেছে। হয়তো কিছুটা কষ্টও। ফলবান বৃক্ষরাজি পুড়ে যাচ্ছে, পুড়ে যাচ্ছে কিছু কিছু জীবজন্তু। খুব কাছে থেকেই দেখছিলো তারা। আর একটা আধপোড়া খরঘোশ পালাতে পালাতে তাদের সামনে এসে পড়ে গেলো। সকলে খাদ্যবস্তু পেয়ে গেলো বিনাশ্রমে। অতপর ক্ষুধার্ত পেটে খাওয়া। আহা কী তৃপ্তি! কাঁচা মাংসের চেয়ে সুস্বাদু। তাহলে এই আগুনটা ধরতে হবে আর শিকার করা পশু পুড়িয়ে স্বাদ-সুয়াদে খাওয়া যাবে।
এই যে চিন্তা অথবা বুদ্ধি মানুষের মাথায় এলো তাতে তাদের এক মহান শিক্ষাও প্রাকৃতিক ভাবে হয়ে গেলো। যেভাবেই হোক আগুনটা ধরতে হবে। তারা আশ্চর্যের সাথে লক্ষ করলো–বনে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া গাছগুলো বারবার ঘর্ষণে আগুন জ্বলে উঠে। আগ্নেয়গিরির পাথর ছিটকে পড়ে আর একটি অপরটির ঘর্ষণে আগুনের ফুলকি উঠে। এবার তারা স্থির সিদ্ধান্তে এলো যে, শুকনো গাছের ডাল অথবা পাথরে পাথরে ঘর্ষণে আগুনকে ধরা যাবে । শুরু হলো প্রচেষ্ঠা, আর একদিন সত্যি সত্যি আগুন জ্বালাতে তারা সক্ষম হলো। সম্ভবত: আগুনের ব্যবহারটাই আজ পর্যন্ত মানুষের অভাবনীয় মৌলিক শিক্ষা এবং আবিস্কার।
আর গুহাবাসী নারীদলটিও কেবল গুহার ভেতরে নিজেদের সার্বক্ষণিক আবদ্ধ রাখলো না। পুরুষপক্ষ শিকারে গেলে তারাও গুহামুখে অথবা আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়, আর এটা সেটা করে। গুহার মুখে বেশ আগাছা। তারা কৌতুহলবশত: সেগুলো পরিষ্কার করতে লাগলো। তবে কী পরিচ্ছন্ন পরিবেশের চিন্তাটা পৃথিবীতে নারীরাই প্রথম করেছিলো ! জাস্ট অসাধারণ চিন্তা এবং কাজ। সাজানো-গুছানোর ব্যাপারটা তাই মেয়েদের আবিস্কার হয়ে রইলো। এবং অনেক অনেক বছর পরে ভদ্র সমাজ বলে উঠলো- “সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।” চলবে…..