সমাজ এক চলমান ধারা (পর্ব-৬)

প্রকাশিত: ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২১
সমাজ এক চলমান ধারা (পর্ব-৬)
————————————————————————-
ননীগোপাল সরকার
কৃষি! আদিম নারীদলটি একটা বিষয় বার বার লক্ষ্য করলো, গুহামুখে লতাগুল্ম, ছোট ছোট গাছগুলো সাফ করার পরেও জন্মায়। সম্ভবত: কচুগাছগুলো দ্রুত বাড়ে। গুড়িশুদ্ধ উপড়ে ফেলে যেগুলো কিছুটা দূরে ফেলেছিলো, সেগুলো আবার জীবন পেয়েছে। বিষয়টা অবাক করার মতো। কেটে ছেটে দিলে শেষ হবার কথা; কিন্তু আবার জীইয়ে উঠে। কৌতুহল বশত: গুহার পাশে তারা চুখা পাথর এবং গাছের ডাল ব্যবহার করে কচু গাছ বা ঐ জাতীয় কিছু গাছ লাগায়। আর সেগুলো পরিপুষ্ঠ হয়ে ওঠে। এভাবে তারা গাছের ডাল লাগিয়ে ফলের গাছও কাছে পেলো। কলাজাতীয় মূলও লাগালো তারা। তাতে একটা নতুন পরিবেশ এলো। গুহার সাথে তারা সুন্দর সুন্দর ফুলের ডাল/চারা লাগিয়ে নিলো। আহা! সুন্দর। শুধু সেইসব আদিম নারীরা জানতো না যে বেঁচে থাকার জন্য চিরকালের মহা আবিস্কার ‘কৃষি’-র জন্ম হয়ে গেলো তাদেরি হাতে। আর নিড়ানি জাতীয় অস্ত্রই আদি কৃষিযন্ত্র হয়ে উঠলো। একটা বিষয় বিষ্ময়কর আবিষ্কার করলো তারা–নতুন গাছ জন্মানোর জন্য মাটি কর্ষণ করতে হয়।
শিকারি দলটি খুব পরিশ্রান্ত, আঘাতপ্রাপ্ত এবং ক্ষুধার্ত থাকে। মেয়েদের সংগৃহিত ফলমূল, সংরক্ষিত মাংস বা খাবার মতো কিছু সামগ্রী তারা তৎক্ষণাৎ চায়। নারীরাও যতটা সম্ভব যোগান দেয়। তাছাড়া শিকার থেকে ফিরলেই সরাসরি এখন আর খাওয়া যায় না। আগুন জ্বালাবার পর পুড়িয়ে খাওয়া এখন রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্ভবত: পৃথিবীতে সর্বপ্রথম এটাই সর্বাপেক্ষা ভালোরীতি প্রচলিত হলো। আর এ কাজে নারীরা অগ্রণী হলো। এখন গুহার অভ্যন্তর এবং বাইরের কিছু পরিবেশগত বিষয়, মলমূত্র ত্যাগের কিছু স্থান নির্ণয়, ঝর্না থেকে পানি সংগ্রহ ইত্যাদি কাজে মেয়েদের ভূমিকা স্থায়ী হয়ে গেলো। তবে সাহসী এবং শক্তিশালী মেয়েরা তখনো পুরুষদের সাথে সমতালে শিকারে অংশ নিতে পিচ্-পা হতো না।
গুহার অন্ধকারে রাত। নারীপুরুষের অবাধ মিলন। কিন্তু তাতেও বয়স্ক নারীরা একটা পরিবর্তন নিয়ে এলো। কেননা অবাধ জৈবিক কাজে প্রায়শঃ নিজেদের মধ্যে সংঘাত হতো। এ ব্যাপারে বয়স্ক নারীরা নিজে যেমন পছন্দ করে সঙ্গী নিতো একরাতের জন্য, তেমনি অন্য নারীদেরকেও সঙ্গী নির্বাচনে কিছুটা সুবিধা দিতো। তবে যে কাউকে তারা রোজ পছন্দ করে নিতে পারতো। কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা ছিলো না। এতে করে সন্তান জন্ম হলে পুরুষরা একদমই জানতো না শিশুটি আসলে কার বা এর পিতা কে? এ কাজটা বেশ কিছু সময়, বছর, কাল অতিক্রম হবার পর, মেয়েরাই জেনে যেতো যে–আসলে কার সন্তান ধারণ করেছে সে। অর্থাৎ বংশধারার বিষয়টি সহ ততদিনে বেশকিছু বিষয়ে নারীদের প্রাধান্যই আসলে গড়ে উঠেছে। এটাই ছিলো আদি মাতৃতান্ত্রিকতার প্রধান ও প্রথম সোপান।
চলবে)। ২৬|৬|২০২১,আর্যগৃহ।