সমাজ এক চলমান ধারা (পর্ব-১০)

প্রকাশিত: ১:৩১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২১

সমাজ এক চলমান ধারা(পর্ব-১০)
—————————————————————-
ননীগোপাল সরকার

দুই বা তিন মাসে এক ঋতুর ধারণা আদিম মানুষের ছিলো না। তারা তিনটি বিশেষ সময় বা কাল বার বার অনুভব করতো। গ্রীষ্ম বা গরম, বর্ষা বা বৃষ্টি এবং শীত বা তুষারপাত। এই তিনটি অবস্থার মধ্যে সবচেয়ে সুখকর ছিলো গ্রীষ্ম। গরম বেশী থাকলেও ফলমূল পেতো বেশী। শিকার করার জন্য বাইরে বেরোবার সুযোগ পেতো বেশী। মোটকথা অন্য দু’টি সময় বা কালের চেয়ে এই সময়ে খাদ্য আহরণ করা সহজ ছিলো। আর উদরপুর্তি থাকায় তাদের মধ্যে অনেকটা আনন্দ হতো। তারা এই তিন সময়ের মধ্যে গ্রীষ্ম বা বর্ষায় শরীর আচ্ছাদনের প্রয়োজন অনুভব করতো না। কিন্তু শীতের সময় শরীরে কিছু না জড়ালে চলতে পারতো না। তারা গাছের ছাল, পশুর শুকিয়ে যাওয়া চামড়া বা বড় বড় বৃক্ষপত্র গায়ে জড়াতো। এই হলো আবরণের প্রথম ইতিহাস। সেই ভাবনা বা প্রচেষ্ঠাই আজকের দিনে বাহারী পোষাকে পরিণত হয়েছে।
আর এ ক্ষেত্রে নারীদলটি ছিলো এগিয়ে। তারা আবরণ জড়িয়ে আনন্দে নেচে উঠতো। কলাপাতা বা সে ধরনের পত্রযোগে অঙ্গের বিভিন্ন অংশ ঢেকে রাখার চেষ্ঠা করতো। পুরুষরাও বিষয়টি দেখে মজা পেতো। নারীরা রঙিন মাটি দিয়ে শরীরে বিভিন্ন চিহ্ন অঙ্কন করতো। আজকের উল্কি আঁকার বিষয়টা কিন্তু একেবারেই নতুন কিছু নয়। সবকিছুতেই যেনো অলক্ষে একটা পুরাতন বিবর্তনের সুর। নারীরা যে গাছ লাগানো শিখে গেছিলো তাতে বাগানের একটা ধারা তো ছিলোই। তারা ফুল কানে গুঁজে রাখতো। আজকের কানের দুল কী সেই পুরাতন ফুল গুঁজার আধুনিক রূপ? তাহলে অলঙ্কারের ধারণাটাও কী আদিম নারীরাই প্রথম শুরু করেছিলো? বিষয়টি আরো একবার ভেবে দেখতে হবে।
শিকারে গিয়ে যে পুরুষটি জখম হয়ে ফিরে এসেছিলো–সে ক’দিন যাবৎ গুহায় পড়ে কাৎরাচ্ছে। আর বার বার আর্তনাদ করছে। কী ভেবে একটি তরুণী এগিয়ে গেলো তার কাছে। ক্ষত স্থানটা বেঁধে দিলো গাছের পাতা দিয়ে। ফলে বাইরের পোকা-মাকড় কিংবা ঘঁষা-মাজার যন্ত্রণা থেকে কিছুটা হলেও উপসম পায় পুরুষটি। পুরুষটি যেনো কেমন বিহবল ভাবে তাকায়। এই বোধ হয় প্রথম পুরুষের রুক্ষ চোখে এক অজানা দীপ্তি,যা গতকালও ছিলো না। মেয়েটি কোথাও যেনো সুখ অনুভব করে। খিলখিল করে হেসে উঠে সে। শরীরে যন্ত্রণা নিয়েও পুরুষটি কিছুটা হাসে। কী অবাক করা মুহুর্ত। এমনটি তো ইতোপূর্বে হয়নি। তারপর কী যে হলো–মেয়েটি দিনের পর দিন সেবা দিচ্ছে আর রাতেও তার সঙ্গী থাকছে। অসুস্থ বিধায় দলের অন্যেরা বিষয়টি আমল দিচ্ছে না। লোকটি একদিন সেরে উঠলো। বাইরের মুক্ত আলোতে তারা দু’জন এখন পাশাপাশি। মেয়েটির এলোমেলো চুলে পুরুষটি একটা ফুল গুঁজে দেয়। তারা যেনো জুটি হয়ে উঠে। মেয়েটি কী এক অচেনা সুরে গুণগুণ করে। দলের অন্যেরা ভাবলো মন্দ কী–যদি সবার এমন একজন সঙ্গী থাকে? বিষয়টি ধীরে ধীরে একটি সম্পর্ক গড়ার যেনো প্রক্রিয়া হয়ে উঠলো। একে কী প্রেম বলবো!

(চলবে) ১।৭।২০২১)।