দুর্গাপুরে স্কুলছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১১:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২১

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে শাকিব (২২) বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত কিশোর নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের রামনগর (কাগজুর) গ্রামের আলতু মিয়ার ছেলে। ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে বিরিশিরি ইউনিয়নের খালিশাপাড়া গ্রামে।

ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গ্রাম্য সালিশে প্রাপ্ত বয়সে বিয়ের আশ্বাসে আপোষ-মিমাংসার নামে দফা-রফা’র ৪৫ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রুহু’র বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধর্ষণের বিচার না পেয়ে ভুক্তভোগীর মা তার মেয়েকে নিয়ে
দুশ্চিন্তায় এখন অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরী প্রতিবেদক’কে জানান, মান গেল,ইজ্জত হারালাম,সমাজে বিচারও পাইনি। সমাজে মুখ দেখাতে পারছিনা। এখন আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো উপায় পাচ্ছিনা। আমার উপর যে জুলুম করা হয়েছে, এমন জুলুম যেন আর কোন শিক্ষার্থীর উপর করা না হয়, এমন সব আবেগঘন কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

 

ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, আমার বয়স যখন ১৬ বছর তখন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে শাকিব প্রায়ই আমাকে উত্ত্যক্ত করত। একদিন স্কুল থেকে একাকী আসার পথে গুজিরকোণা বেলতলা নামক জায়গায় আমাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এবং ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে আরো বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার ধর্ষণ করে সাকিব। পরে আবারও একদিন বাড়িতে এসে পুণরায় ধর্ষণের চেষ্টা চালালে প্রতিবেশী আব্দুল কাদির মিয়ার ছেলে শাহীন মিয়া বিষয়টি টের পেলে ডাক-চিৎকার শাকিব ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে চেয়ারম্যান ও গ্রাম্য মাতাব্বরগণ সাকিবের প্রভাবশালী ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে সালিশ ডেকে বিষয়টি ৪৫ হাজার টাকায় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রাপ্ত বয়সে বিয়ের আনুষ্ঠানিক খরচের আশ্বাসে ওই টাকা ইউপি চেয়ারম্যান নিজ জিম্মায় রেখে দেন। আজ প্রায় ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিয়ের তারিখ নির্ধারণ ও ওই টাকার কোন হদিস পাচ্ছি না। পরে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রুহু ওই টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

 

ভুক্তভোগীর পিতা বলেন, আমার মেয়ের উপর যে অবিচার করা হয়েছে আমি এর বিচার চাই। গ্রাম্য সালিশের বিয়ের সিদ্ধান্তে ১৮ বছর পূর্ণ হলেও এখন বিয়ে নিতে নারাজ অভিযুক্ত ও তার পরিবার। এ বিষয়টির কারনে আমি কোথাও মুখ দেখাতে পারছিনা। আমার মেয়েকে এখন কেউ বিয়ে করবে না। এমন জঘন্য প্রতারণা না করে আমার পরিবারের সবাইকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেললেও পারতো।

ভুক্তভোগীর চাচাতো ভাই বলেছেন, মামলা করার পর থেকে বেশ কয়েকবার তারা হুমকি-ধমকির শিকার হয়েছেন। এমনকি কিছুদিন আগেও ভাড়াটে গুন্ডা ও কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয়েছেন।

এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর দাবি, দুর্গাপুর থানার উপ-পরিদর্শক ও ঐ ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা বিট অফিসার মো. সাদেক ধর্ষণের ঘটনার দুই বছরেরও অভিযুক্ত আসামীকে শাকিবকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কিশোরীকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে ধর্ষণের মেডিকেল টেস্ট করান। আদালতের মাধ্যমে আমার কোন জবানবন্দি নেননি। তিনি ধর্ষকের পরিবারের সাথে একাত্ত্বতা পোষণ করে আমার সাথে অবিচার করেছেন। আমার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র ও অশিক্ষিত হওয়ায় মামলা পরিচালনায় পদে পদে বাধাগ্রস্থ হতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে গ্রাম্য সালিশের বিচারক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রুহু বলেন, ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে আমার বাড়িতেই সালিশ বসে। শিক্ষার্থীর বয়স হয়নি বিবেচনায় প্রাপ্ত বয়সে তাদের বিয়ে দেওয়া হবে। আনুষ্ঠানিক খরচ ৪৫ হাজার টাকা আমার কাছে রেখে যান ছেলে পক্ষ। পরে শুনলাম মেয়ের পরিবার মামলা করেছে। তখন ছেলের পরিবারের হাতে তাঁদের দেয়া টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। আর আমি ঐ টাকা আত্মসাত করতে যাবো কেন। ধর্ষণ ঘটনা গ্রাম্য সালিশে বিচার করার এখতিয়ার স্থানীয় চেয়ারম্যান এর আছে কিনা এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এ বিষয়টি আর কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।