আমি গর্বিত আমি বাকৃবিয়ান

প্রকাশিত: ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২১

ড. মো. আনোয়ার হোসেনঃ

আজ মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ৬১তম জন্মদিন। শুভ জন্মদিন “বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)”। আমি গর্বিত একজন বাকৃবিয়ান হিসাবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি শিক্ষাকে পূর্ণতা দিতে এবং কৃষি ও কৃষিবিজ্ঞানের সকল শাখায় উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দের জাতীয় শিক্ষা কমিশন এবং খাদ্য ও কৃষি কমিশনের সুপারিশে ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ আগস্ট ময়মনসিংহ শহর থেকে চার কিলোমিটার দক্ষিণে পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে এক হাজার ২০০ একর জায়গায় যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। কৃষিশিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১৯৬১ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠিত হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়। ভেটেরিনারি ও কৃষি অনুষদ নিয়ে এর পদযাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদের (কৃষি, ভেটেরিনারি, কৃষি প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি, পশুপালন, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রমীণ সমাজবিজ্ঞান এবং মাৎস্যবিজ্ঞান) অধীনে ৪৩টি বিভাগ এবং ৪টি ইনস্টিটিউটের অধীনে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৬৮৫ শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দিয়েছে। এর মধ্যে স্নাতক ২৮ হাজার ৯৩০ জন, স্নাতকোত্তর ১৯ হাজার ৫ জন এবং পিএইচডি ৭৫০ জন। বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী সাত হাজার ৯২৩ জন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ৫৬৩ জন। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছেলেদের জন্য ৯টি ও মেয়েদের জন্য ৪টি আবাসিক হল রয়েছে। এ ছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত দেশের প্রথম কৃষি জাদুঘর, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, ইন্টার-ডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটি, ইনস্টিটিউট অব এগ্রিবিজনেস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, ভেটেরিনারি ক্লিনিক, উপমহাদেশের প্রথম মৎস্য জাদুঘর এবং প্রায় সাড়ে চার হাজার বৃক্ষসমৃদ্ধ বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রতিষ্ঠানটিকে করেছে সমৃদ্ধ এবং অনন্য মান সম্পন্ন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ১৯৮৪ সালের ৩০ আগস্ট বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাউরেস উদ্ভাবিত উন্নত কৃষি প্রযুক্তিগুলো সম্প্রসারণের জন্য ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ কেন্দ্র। এ সম্প্রসারণ কেন্দ্রের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। বাউরেসের অধীনে পরিচালিত হয় আধুনিক এবং সময়োপযোগী গবেষণা কার্যক্রম।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের কৃষিতে এনেছে অভাবনীয় সাফল্য। কৃষিতে এই অভাবনীয় সাফল্য বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় দাঁড় করিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তায় আজ অর্জন করেছে এক ঈর্ষণীয় সাফল্য। সেই সঙ্গে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ফল ও শাকসবজির উৎপাদন, যা ভূমিকা রাখছে দারিদ্র্য বিমোচন ও খাদ্য নিরাপত্তায়। উন্নয়নের এই ধারাকে অব্যহত রাখতে প্রতি বছর তৈরি করছে যুগের চাহিদাসম্পন্ন আধুনিক মানের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষিবিদ, কৃষিপ্রযুক্তিবিদ ও কৃষি প্রকৌশলী, যারা দক্ষতার সহিত কাজ করে যাচ্ছে দেশে এবং বিদেশের বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। কৃষি শিক্ষার মান, আধুনিক গবেষণা এবং কৃষির বিভিন্ন সেক্টরে নানাবিদ প্রযুক্তি উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় বিশ্ব রেংকিংয়ে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেতাব রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটির। বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন অবদানের জন্য জাতীয় পদক ও সম্মাননা লাভ করে। আমি মনে করি, আগামীতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান বিশ্বের নানাবিদ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে দক্ষ কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষিবিদ, কৃষিপ্রযুক্তিবিদ ও কৃষি প্রকৌশলী তৈরিতে আরো যন্ত্রশীল হবে যা কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন, মৌলিক গবেষণা ও গবেষণা লব্দ ফলাফল সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের টেকসই খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিরাপত্তায় আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

লেখক:
ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা
ফার্ম মেশিনারি এন্ড পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট
গাজীপুর-১৭০১।