নিজ হাতে তৈরী দূগার্প্রতিমা দিয়েই পূজারির কাজ করছে দুর্গাপুরের শিশু নির্মান দত্ত

প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২১

এস.এম রফিক (দুর্গাপুর) নেত্রকোনাঃ

নেত্রকোনার দুগার্পুর পৌরসভার কিশোর নির্মাণ দত্ত ১৫ বছর বয়সেই নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে। তার নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মৃন্ময়ী প্রতিমা ধীরে ধীরে দেবী দুর্গার রূপ ধারণ করছে। মন্ত্র পাঠ করে নিজের হাতে গড়া দেবীর পূজা করে এলাকায় সাড়া ফেলেছে সে।

গতকাল সোমবার বিকেলে এমনটাই জানালো শিল্পী নিমার্ন দত্ত। নিমার্ন দত্ত পৌরসভার শিবগঞ্জ বাজারের গোপাল দত্ত ও নমিতা দত্তের ছোট ছেলে। ৬ বছর ধরে নিজেই প্রতিমা তৈরি করে পূজা শুরু করে নির্মাণ দত্ত। দুর্গাপুর এমকেসিএম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র নির্মার।

ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক ছিল তার। বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় প্রতিমা তৈরির সাধ জাগে তার। ওস্তাদ ছাড়াই বাড়িতে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির চেষ্টা করতে থাকে। অবশেষে ২০১৬ সালে তৈরি করে দূর্গাপ্রতিমা। প্রতিভা দেখে অবাক হয়ে যান তার মা-বাবা ও স্বজনরা।

এভাবে প্রতি বছরই বাড়ির আঙ্গিনায় মন্ডপ তৈরি করে দুর্গাপূজা উদযাপন করে থাকে নির্মাণ দত্ত। নির্মাণ গত এক মাসের চেষ্টায় তৈরি করেছে দুর্গা, কার্তিক, গণেশ, মহিষাসুর, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর প্রতিমা। রং-তুলির কাজটিও নিজের হাতে করে সে। কোনো ডাইস বা ফর্মা ছাড়াই নিজ হাতে প্রতিমাগুলোর মুখন্ডল তৈরি করেছে সে, যা খুবই অভাবনীয়। পাল বংশের সন্তান না হয়েও নির্মাণ দত্তের প্রতিমা তৈরির প্রতিভা দেখে বিস্মিত স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

ঐ এলাকার একাধিক বাসিন্দারা জানান, নির্মাণ দত্তের সাহস ও আত্মবিশ্বাস দেখে বেশ অবাক হয়েছি আমরা। প্রতিমা তৈরিতে তার নিখুঁত কাজ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ‘‘যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা, নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ। এই মন্ত্র পড়ে নির্মাণ দত্ত জানায়, নিজ হাতে দেবী দূর্গা বানানোর ইচ্ছা অনেক দিনের। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা ও সকলের আশীর্বাদে আজ সেটা করতে পেরেছি। এ জন্য খুব আনন্দ লাগছে, আমি সকলের কাছে আশীর্বাদ চাই।

দুর্গাপুর উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানেশ চন্দ্র সাহা এ প্রতিবেদক’কে বলেন, নির্মাণ কিশোর বয়সে কোনো সাহায্য ছাড়াই দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছে। বিষয়টি সত্যিই প্রশংসনীয়। তার হাতের ছোঁয়া খুবই নিখুঁত, পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে আরও ভালো কিছু করতে পারবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাজীব-উল-আহসান এ প্রতিনিধি কে বলেন, নিমার্ন দত্তের প্রতিভা’ই তাকে সাফল্যের দিকে পৌছে দিবে। কারো কাছে প্রতিমা গড়ার কাজ না শিখেই এত নিখুত ভাবে প্রতিমা তৈরী করা সহজকথা নয়। শুধু তাই নয় ও খুব ভালো ছবি আঁকে সে। তার প্রয়োজন থাকলে আবেদনের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন সহায়তা করবে। আমি এই ক্ষুদে শিল্পীর সাফল্য কামনা করছি।