মোহনগঞ্জের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৮

আজহারুল ইসলাম আজহারুল ইসলাম

মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫:০০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২১

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে চলামান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণা ঘিরে দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এদের মধ্যে নৌকার সমর্থক তিনজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউপির সহিলদেও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সমাজ-সহিলদেও ইউপির নৌকার প্রার্থী আমিনুল ইসলাম খান সোহেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর মোহাম্মদ খান বার্কোর সমর্তকদের মাঝে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে নৌকার সমর্থক সহিলদেও গ্রামের মো. শাহীন মিয়া, মো. বাচ্চু মিয়া ও মো. রফিকুল, স্বপন মিয়া ও নূরনবী এ পাঁচজন আহত হয়। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) পাঠানো হয়েছে। অপর দুইজন মোহনগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান চিকিৎসক।

অপরপক্ষের আহতরা হলেন, জয়পুর গ্রামের কায়কোবাদ, মাখন মিয়া ও জামাল মিয়া। তারা পাশের মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। মদন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শান্তনু সাহা জানান, আহতদের মধ্যে দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিদায় দেওয়া হয়েছে। আর অপরজন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে তার আঘাত সামান্য।

এ ঘটনায় বুধবার রাতেই নৌকার প্রার্থীর পক্ষ থেকে মোহনগঞ্জ থানায় প্রতিপক্ষের ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে মোহনগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। পরে ঘটনায় যুক্ত থাকার দায়ে শিহাব নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিহাবের বাড়ি উপজেলার জয়পুর গ্রামে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর মোহাম্মদ খান বার্কো তার লোকজনের ওপর হামলার অভিযোগ এনে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

নৌকার প্রার্থী আমিনুল ইসলাম খান সোহেল বলেন, ওইদিন সন্ধ্যায় আমার সমর্থকরা নিজ গ্রামে বাড়ির সামনে হাঁটাহাঁটি করছিল। এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বার্কোর সমর্থকরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে এসে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আমার পাঁচজন সমর্থক আহত হয়েছে। এরমধ্যে তিনজন গুরুতর তাদের ময়মনসিংহ রেফার্ড করেছেন ডাক্তার। স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন প্রতিনিয়ত আমার প্রচারণা কাজে ঝামেলা সৃষ্টি করছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর মোহাম্মদ খান বার্কো বলেন, ওইদিন সন্ধ্যায় লোকজন নিয়ে পাশের কমলপুর গ্রামে একজনের জানাযায় যাচ্ছিলাম। পথে নৌকা প্রার্থীর লোকজন আমার লোকজনের ওপর লাটিসোঠা নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমার চারজন সমর্থক আহত হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে ময়মনসিংহ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ওইদিন সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেল উদ্ধার করে আনা হয়েছে। নৌকার প্রার্থীর পক্ষ থেকে করা মামলায় শিহাব নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জেনেছে। অভিযোগটি এখনো হাতে পাইনি। হাতে পেয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য ৪র্থ ধাপে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের সাত ইউপিতে আগামী ২৬ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সমাজ-সহিলদেও ইউপিতে দুইজন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করছেন। দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম খান সোহেল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন নূর মোহাম্মদ খান বার্কো। আওয়ামী লীগপন্থী হওয়ায় দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় সম্প্রতি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।