বছরের প্রথম দিন নতুন বই পায়নি শিক্ষারীরা

আজহারুল ইসলাম আজহারুল ইসলাম

মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২২

নতুন বছরের প্রথম দিন দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেলেও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের পশ্চিম সহিলদেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন বই পায়নি। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মন খারাপ হয়েছে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিকে দায়ী করছেন অভিভাবকরা।

সোমবার সকালে সরেজমিন উপজেলার পশ্চিম সহিলদেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়, শুধু এটিই নয় বিদ্যালয়ের ভবনে বিদ্যালয়ের নাম পর্যন্ত লিখা পাওয়া যায়নি। গত বছরের অক্টোবরে রঙ করা হলেও এখনো পর্যন্ত লিখা হয়নি বিদ্যালয়ের নাম। এতে করে সাধারণ বাড়ি-ঘরের মতোই মনে হয় ওই বিদ্যালয়কে।

স্থানীয়রা জানান, নতুন বছরের প্রথম দিনে এই বিদ্যালয়ে কোনো নতুন বই বিতরণ করা হয়নি। শুধু তাই নয় এই বিদ্যালয়ে নিয়ম মতো কোনো কিছু হয় না। বিদ্যালয়ে গত বছরের মাঝামাঝি রঙ করা হয়েছে, আজও পর্যন্ত বিদ্যালয়ের নামটিও লিখা হয়নি। পড়ালেখারও একই অবস্থা।

মো. তপন মিয়া নামে এক অভিভাবক বলেন, বছরের প্রথম দিন ওই বিদ্যালয়ে নতুন বই দেওয়া হয়নি। রোববার বিকেলে দেখেছি বই এনেছে শিক্ষকরা। তারপর বিকেলে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডেকে কিছু বই দিয়েছে। আর আজকে বাকি বই বিতরণ করছে। অন্যান্যা বিদ্যালয়ে বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়েছে। আমাদের বাচ্ছারা নতুন বই না পেয়ে মন খারাপ করেছে। এটিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতি বলে মনে করছেন তিনি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান আকন্দ কোনো সদোত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, শিক্ষা অফিস থেকে বই পেতে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে। তাই একটু দেরি হয়েছে। তবে বছরের প্রথম দিন কিছু বই দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিপালী সরকারকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মির্জা মোহাম্মদ বলে, নতুন বই নেওয়ার জন্য সকল বিদ্যালয়কে অনেক আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা নোটিশ মোতাবেক নিয়ে বছরের প্রথমদিনই বিতরণ করেছেন। পশ্চিম সহিলদেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যদি নোটিশ অনুযায়ী বই না নিয়ে থাকে এটা তাদের ব্যর্থতা। বিদ্যালয়ের নাম লিখার বিষয়টি আমার জানা নেই। তারপরও দুটো বিষয়ই দেখবো। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান করা হবে।

বিষয়টি অবগত করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে তাগাদা দেব।